, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, ক্ষোভ ভোলার বোরহানউদ্দিনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে পিটিয়ে জখম গাইবান্ধায় শিশু স্বর্গের ফলক উন্মোচন ও মতবিনিময় করলেন সচিব মো. আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধায় ৩২৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী গ্রেপ্তার, নগদ টাকা উদ্ধার গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বহুমুখী নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন ও বীজ বিতরণ যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় গুণী শিক্ষক সাহিদা আক্তার সুমনাকে সম্মাননা প্রদান ভোলার চর সামাইয়া-আলীনগরে মাইনউদ্দিন-জসিমের নেতৃত্বে চলছে মাদকের রমরমা বানিজ্য! গাইবান্ধায় বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ভোলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা, জাল দলিল তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন।

প্রেমের টানে ভাতিজার সঙ্গে পালিয়েছেন চাচি

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ২৫১ পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট ॥
পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা আর পাঁচ বছরের এক শিশুর আকুতি-সবকিছুকে আড়াল করে প্রেমের টানে ঘর ছাড়লেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে আপন ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সঙ্গে চাচির এই অন্তর্ধানে শুধু একটি পরিবারই ভাঙেনি, বরং গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার এক চেনা অবক্ষয়ও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাতে গবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসঙ্গে নিখোঁজ হন। বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর যখন তাদের কোনো হদিস মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই পরিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরে থাকা পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য ক্রমাগত কেঁদে চলেছে, যার কোনো সান্ত্বনা নেই পরিবারের কাছে।

জানা যায়, এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বা অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন এলাকায় নতুন ছিল না। গত ঈদুল ফিতরের পরেও তারা একবার ঘর ছেড়েছিলেন। সে সময় গ্রামীণ সালিশ ও মাতুব্বরদের সামাজিক চাপে সাময়িকভাবে বিষয়টির সুরাহা করে রুমানাকে সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের যে শূন্যতা বা ভুল আকর্ষণের জন্ম হয়েছিল, কেবল বাহ্যিক শাসন দিয়ে যে তার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এবারকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সেটিই প্রমাণ করল।

ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। হাসান সম্পর্কে তার আপন ভাতিজা এবং সে রুমানাকে মা বলেই সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য ও অসতর্কতার সুযোগে তারা এক সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাসানের সাথে ঘর ছাড়ে।

ছেলের এমন আচরণে লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবাও। তিনি জানান, ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা সামাজিক নানা জটিলতায় ব্যর্থ হয়েছে। ছেলের এমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। বর্তমানে হাসান ও রুমানা উভয়েরই মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনা প্রসঙ্গে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম ধস। লোকলজ্জা এবং নৈতিকতার এই অবক্ষয় রুখতে না পারলে সমাজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় জানান, লোকমুখে বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সুত্র : https://rtvonline.com/country/385789

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

প্রেমের টানে ভাতিজার সঙ্গে পালিয়েছেন চাচি

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট ॥
পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা আর পাঁচ বছরের এক শিশুর আকুতি-সবকিছুকে আড়াল করে প্রেমের টানে ঘর ছাড়লেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে আপন ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সঙ্গে চাচির এই অন্তর্ধানে শুধু একটি পরিবারই ভাঙেনি, বরং গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার এক চেনা অবক্ষয়ও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাতে গবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসঙ্গে নিখোঁজ হন। বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর যখন তাদের কোনো হদিস মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই পরিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরে থাকা পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য ক্রমাগত কেঁদে চলেছে, যার কোনো সান্ত্বনা নেই পরিবারের কাছে।

জানা যায়, এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বা অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন এলাকায় নতুন ছিল না। গত ঈদুল ফিতরের পরেও তারা একবার ঘর ছেড়েছিলেন। সে সময় গ্রামীণ সালিশ ও মাতুব্বরদের সামাজিক চাপে সাময়িকভাবে বিষয়টির সুরাহা করে রুমানাকে সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের যে শূন্যতা বা ভুল আকর্ষণের জন্ম হয়েছিল, কেবল বাহ্যিক শাসন দিয়ে যে তার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এবারকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সেটিই প্রমাণ করল।

ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। হাসান সম্পর্কে তার আপন ভাতিজা এবং সে রুমানাকে মা বলেই সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য ও অসতর্কতার সুযোগে তারা এক সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাসানের সাথে ঘর ছাড়ে।

ছেলের এমন আচরণে লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবাও। তিনি জানান, ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা সামাজিক নানা জটিলতায় ব্যর্থ হয়েছে। ছেলের এমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। বর্তমানে হাসান ও রুমানা উভয়েরই মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনা প্রসঙ্গে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম ধস। লোকলজ্জা এবং নৈতিকতার এই অবক্ষয় রুখতে না পারলে সমাজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় জানান, লোকমুখে বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সুত্র : https://rtvonline.com/country/385789