, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, ক্ষোভ ভোলার বোরহানউদ্দিনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে পিটিয়ে জখম গাইবান্ধায় শিশু স্বর্গের ফলক উন্মোচন ও মতবিনিময় করলেন সচিব মো. আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধায় ৩২৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী গ্রেপ্তার, নগদ টাকা উদ্ধার গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বহুমুখী নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন ও বীজ বিতরণ যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় গুণী শিক্ষক সাহিদা আক্তার সুমনাকে সম্মাননা প্রদান ভোলার চর সামাইয়া-আলীনগরে মাইনউদ্দিন-জসিমের নেতৃত্বে চলছে মাদকের রমরমা বানিজ্য! গাইবান্ধায় বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ভোলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা, জাল দলিল তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন। ভোলা সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের কমিটি অনুমোদন

গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, ক্ষোভ

  • প্রকাশের সময় : ১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৬ পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলা শহরের বাংলাবাজারে অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহীদ মিনারের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমান জানান, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব গত ১৮ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে শহীদ মিনারে উঠে অবমাননাকর বক্তব্য দেন এবং তাতে লাথি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রয়েছে বলেও দাবি করেন অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দাপ্তরিক পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৯ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত রোববার থানা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এর পরদিন সোমবার সকালে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক আরও উগ্র আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শহীদ মিনারের মাঝের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস ভেঙে ফেলা হয়।

অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালককে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন। এ সময় তিনি অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমানের কাছে শহীদ মিনারের ক্ষতিসাধনের ঘটনায় গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনারের এমন ক্ষতিসাধনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শহীদ মিনারটি যথাযথভাবে সংস্কার ও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, ক্ষোভ

গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ১০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলা শহরের বাংলাবাজারে অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহীদ মিনারের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমান জানান, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব গত ১৮ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে শহীদ মিনারে উঠে অবমাননাকর বক্তব্য দেন এবং তাতে লাথি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রয়েছে বলেও দাবি করেন অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দাপ্তরিক পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৯ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত রোববার থানা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এর পরদিন সোমবার সকালে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক আরও উগ্র আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শহীদ মিনারের মাঝের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস ভেঙে ফেলা হয়।

অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালককে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন। এ সময় তিনি অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমানের কাছে শহীদ মিনারের ক্ষতিসাধনের ঘটনায় গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনারের এমন ক্ষতিসাধনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শহীদ মিনারটি যথাযথভাবে সংস্কার ও এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।