
গাইবান্ধা চাপাদহ এতিমখানা ও দাখিল মাদ্রাসার নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, পরীক্ষা স্থগিত
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা চাপাদহ এতিমখানা দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসায় নবসৃষ্ট শূন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষা আবেদনকারী প্রার্থীদের যথাযথভাবে না জানিয়ে আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে সব আবেদনকারীকে যথাযথভাবে অবহিত না করে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সুপারের যোগসাজশে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে কয়েকজন আবেদনকারী অভিযোগ করেন।
আবেদনকারীদের দাবি, শনিবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলার ধোপাডাঙ্গা নতুন বাজার এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন আবেদনকারী স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দেন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি জানতে পারেন।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হেদায়েতুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরীক্ষা স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আবেদনকারীরা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে সব প্রার্থীকে যথাযথভাবে অবহিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা সকল আবেদনকারীকে লিখিতভাবে বা যথাযথ মাধ্যমে অবহিত করে নিয়মতান্ত্রিক ও প্রকাশ্যভাবে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম সাজু বলেন, “আমি এই নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানি না। সভাপতি সবকিছু করেছেন। ঢাকা থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের যে প্রতিনিধি এসেছেন, তাকেও সভাপতি নিয়ে এসেছেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও তিনি নিয়ে এসেছেন। অর্থনৈতিক কোনো লেনদেন হয়ে থাকলে তিনিই করেছেন। আমি কোনো অনিয়ম করিনি এবং এসব বিষয়ে কিছুই জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করতে বলেছেন। পরে আমি পরীক্ষা স্থগিত করেছি।”
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।













