, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গাইবান্ধায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, ক্ষোভ ভোলার বোরহানউদ্দিনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে পিটিয়ে জখম গাইবান্ধায় শিশু স্বর্গের ফলক উন্মোচন ও মতবিনিময় করলেন সচিব মো. আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধায় ৩২৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী গ্রেপ্তার, নগদ টাকা উদ্ধার গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বহুমুখী নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন ও বীজ বিতরণ যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় গুণী শিক্ষক সাহিদা আক্তার সুমনাকে সম্মাননা প্রদান ভোলার চর সামাইয়া-আলীনগরে মাইনউদ্দিন-জসিমের নেতৃত্বে চলছে মাদকের রমরমা বানিজ্য! গাইবান্ধায় বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ভোলায় ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা, জাল দলিল তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন।

গাইবান্ধায় হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকসহ দুজন বরখাস্ত

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ২৭৩ পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি,:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার হঠাৎ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে গিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (সেকমো) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে অভিযোগকারী রোগীকে ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) হিসেবে কর্মরত। এছাড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুুর রহমানকে ওয়ার্নিং লেটার (সতর্কতা পত্র) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও ছুটিতে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে শামসুন্নাহার নামে কুকুরের কামড়ে আহত এক রোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী (সেকমো) তাকে বাইরে থেকে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন কিনতে বলেন। পরে তিনি ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে তা গ্রহণ করেন।
এ অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দকে ফোন করে ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে সেকমো হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিকেলে ফেরার পথে বরখাস্তের আদেশপত্র দেখবেন বলেও জানান। এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করবেন বলে জানান মন্ত্রী।
ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, ‘আমরা জানতাম না মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শনে আসবেন। আমি বগুড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। মন্ত্রী মহোদয় আসার খবর পেয়ে শুধু হাজিরা দিয়ে চলে আসি। পরে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরের। রোগী অফিস সময়ের পর, অর্থাৎ দুপুর ২টার পরে এসেছিলেন। তাই দায়িত্বরত সেকমো তাকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।’
তিনি জানান, যাওয়ার পথে মন্ত্রী মহোদয় অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অভিযোগকারী রোগীর ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। টাকা পরিশোধ করলে তাকে আর সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না বলেও মন্ত্রী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টার সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তিনি গোটা হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে কথাবার্তা বলেন। এসময় মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের ভালোভাবে চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দেন।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

গাইবান্ধায় হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকসহ দুজন বরখাস্ত

প্রকাশের সময় : ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি,:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার হঠাৎ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে গিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (সেকমো) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে অভিযোগকারী রোগীকে ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) হিসেবে কর্মরত। এছাড়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুুর রহমানকে ওয়ার্নিং লেটার (সতর্কতা পত্র) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও ছুটিতে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে শামসুন্নাহার নামে কুকুরের কামড়ে আহত এক রোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী (সেকমো) তাকে বাইরে থেকে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন কিনতে বলেন। পরে তিনি ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে তা গ্রহণ করেন।
এ অভিযোগ শুনে ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দকে ফোন করে ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে সেকমো হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিকেলে ফেরার পথে বরখাস্তের আদেশপত্র দেখবেন বলেও জানান। এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করবেন বলে জানান মন্ত্রী।
ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দ জানান, ‘আমরা জানতাম না মন্ত্রী মহোদয় পরিদর্শনে আসবেন। আমি বগুড়া আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলাম। মন্ত্রী মহোদয় আসার খবর পেয়ে শুধু হাজিরা দিয়ে চলে আসি। পরে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার দুপুরের। রোগী অফিস সময়ের পর, অর্থাৎ দুপুর ২টার পরে এসেছিলেন। তাই দায়িত্বরত সেকমো তাকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।’
তিনি জানান, যাওয়ার পথে মন্ত্রী মহোদয় অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অভিযোগকারী রোগীর ১ হাজার ৩০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। টাকা পরিশোধ করলে তাকে আর সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না বলেও মন্ত্রী মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টার সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তিনি গোটা হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে কথাবার্তা বলেন। এসময় মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের ভালোভাবে চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দেন।