
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নুর উদ্দিন হাওলাদার নামে এক ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নিউটাউন এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়েও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আজ রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাইমুনা আক্তার বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে সোনারগাঁওথানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত নুর উদ্দিন হাওলাদার পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে পিরোজপুর ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রবের বাড়িতে বিল্ডিং নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে নতুন কাজ ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গত ১৪ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে নিউটন আবাসিক এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় অবস্থান করছিলেন নুর উদ্দিন। এ সময় জাহিদ ওরফে হাসা, মেহেদী হাসান ওরফে শুভ, আব্দুর রব, হোসনা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
একপর্যায়ে নুর উদ্দিন প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় ভাড়াটিয়া মিজান ও জামালসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুর উদ্দিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের স্ত্রী মাইমুনা আক্তার বলেন, তার স্বামীর ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











