, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আসন্ন ভোলা পৌর নির্বাচনে আলোচনায় বিজেপি নেতা,মেহেদী হাসান হান্নান গাইবান্ধা সরকারি কলেজে আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত লিভার পরিষ্কার করতে খাবেন যেসব খাবার গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২, অস্ত্র আইনে মামলা গাইবান্ধায় ৩২৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী গ্রেপ্তার, নগদ টাকা উদ্ধার বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হওয়ায় ভেদুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুজন হাওলাদারের মিষ্টি বিতরণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকদল ভোলা-ঢাকা রুটে প্রথমবার বিআইডব্লিউটিসির পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু স্বামীকে ইতালি রেখে দেশে ফিরে প্রেমিককে বিয়ে ৪ সন্তানের জননীর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে হায়দার আলী লেলিনের শুভেচ্ছা।

চরফ্যাশনে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে অভিযোগ। তদন্ত শুরু পুলিশের

  • প্রকাশের সময় : ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ২১৫ পড়া হয়েছে

ভোলা প্রতিনিধি :
চরফ্যাশনের ৫ নং ওয়ার্ডের জলিল ও শরীফ গংদের বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন আতিকুর রহমান শিবলু নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মেহেদী হাসান।

অভিযোগে বলা হয়, জলিল ও শরীফ গং দীর্ঘদিন ধরে এওয়াজপুর ও পশ্চিম এওয়াজপুর গ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এদের অত্যাচারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। চাঁদার দাবিতে অপমান অপদস্ত করছেন ব্যবসায়ীদের। সাধারণ মানুষও তাদের হাত থেকে রেহাই পান না। এদের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক এবং ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এওয়াজপুরের কাদির মাঝির ছেলে ছালাম জলিল ও শরীফ রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদার টাকা না দিলে মারধর, হামলা ও অপমান অপদস্ত করছেন। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ৫-৭ জন উশৃংখল তরুণ। জলিল এওয়াজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি বলে নিজকে দাবি করেন। তার ভাই শরীফও বেপরোয়া। এদের চাঁদাবাজি ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই।

জলিল ও শরীফের সহযোগী ক্যাডাররা হলো- এওয়াজপুর ওয়ার্ডের জনৈক খালেকের ছেলে রিয়াদ, সালাম রাড়ির ছেলে জুয়েল, রায়হান মাতব্বর, জনৈক শাজাহানের ছেলে আকাশ, মালেক আহনের ছেলে ইসমাইল হোসাইন সম্রাট এবং রফিক মিস্তীর ছেলে ইমাম হোসাইন ইমন।

এলাকাবাসী জানান, ইতোমধ্যে জলিলের একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়। ওই কলরেকর্ডে জলিল পশ্চিম এওয়াজপুরের আতিকুর রহমান শিবলুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। কলরেকর্ডে জলিলকে বলতে শোনা যায়, শিবলুকে হত্যার জন্য উপর মহলের নির্দেশ রয়েছে। হত্যা করতে পারলে পুরস্কার আছে।

এলাকাবাসী বলছেন, জলিল ও শরীফ অত্যন্ত বেপরোয়া। ওরা যে কোনো সময় যে কাউকে খুন করতে পারে।

জলিল এবং শরীফ তাদের ফেসবুক আইডির মাধ্যমে হুমকি দিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছেন। টাকা না দিলে আওয়ামী লীগ ট্যাগ লাগিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন। গত ২৫ মে জলিল-শরীফ তাদের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন এলাকার আলহাজ আবুল কালাম মাস্টারের ছেলে নুরউল্যাহকে নিয়ে। ওই স্ট্যাটাসে নুরুল্লাহর নামে বিভিন্ন আপত্তিজনক ও মানহানিকর কথা লিখেন।

এলাকার হুমায়ুন পন্ডিত নামের এক ব্যক্তির নামে তার ছবি দিয়ে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে গত ২২ মে জলিল ও শরীফের ফেসবুক আইডি থেকে। তাছাড়া, বিভিন্ন ব্যক্তিকে আক্রমণ ও হুমকি দিয়ে জলিল-শরীফ বিভিন্ন সময় তাদের ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন।

চরফ্যাশনের সাংবাদিক এম আবু সিদ্দিক ও সাংবাদিক জামাল মোল্লাকে নিয়ে জলিল ও শরীফ তাদের ফেসবুকে উস্কানি ও মানহানিকর স্ট্যাটাস দেন।

২০২৫ সালের ১৩ জুন দুপুর ২ টার দিকে জলিল-শরীফের নেতৃত্বে এলাকার ৬-৭ জন তরুণ অতর্কিতভাবে আতিকুর রহমান শিবলু ও আরশাদুল আলম নোবেলের উপর হামলা চালান। এতে শিবলু ও নোবেল মারাত্মক আহত হন। আহত দুজনের বক্তব্য হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে জলিল-শরীফ চাঁদা দাবি করে আসছেন।

আতিকুর রহমান শিবলু গত ৫ মে আইজিপির কাছে অভিযোগ করলে তদন্তের ভার আসে সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মেহেদী হাসানের উপর। সহকারী পুলিশ সুপার আজ২৪ জুলাই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

আতিকুর রহমান শিবলু জানান, সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান তার কার্যালয়ে আমাকে ডেকে আমার বক্তব্য শুনেছেন। আমি তাকে বিস্তারিত জানিয়েছি। আমি আশংকা করছি অভিযুক্তরা আমার যে কোনও ক্ষতি করতে পারে।

আসন্ন ভোলা পৌর নির্বাচনে আলোচনায় বিজেপি নেতা,মেহেদী হাসান হান্নান

চরফ্যাশনে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে অভিযোগ। তদন্ত শুরু পুলিশের

প্রকাশের সময় : ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভোলা প্রতিনিধি :
চরফ্যাশনের ৫ নং ওয়ার্ডের জলিল ও শরীফ গংদের বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন আতিকুর রহমান শিবলু নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মেহেদী হাসান।

অভিযোগে বলা হয়, জলিল ও শরীফ গং দীর্ঘদিন ধরে এওয়াজপুর ও পশ্চিম এওয়াজপুর গ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এদের অত্যাচারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। চাঁদার দাবিতে অপমান অপদস্ত করছেন ব্যবসায়ীদের। সাধারণ মানুষও তাদের হাত থেকে রেহাই পান না। এদের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক এবং ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এওয়াজপুরের কাদির মাঝির ছেলে ছালাম জলিল ও শরীফ রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদার টাকা না দিলে মারধর, হামলা ও অপমান অপদস্ত করছেন। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ৫-৭ জন উশৃংখল তরুণ। জলিল এওয়াজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি বলে নিজকে দাবি করেন। তার ভাই শরীফও বেপরোয়া। এদের চাঁদাবাজি ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই।

জলিল ও শরীফের সহযোগী ক্যাডাররা হলো- এওয়াজপুর ওয়ার্ডের জনৈক খালেকের ছেলে রিয়াদ, সালাম রাড়ির ছেলে জুয়েল, রায়হান মাতব্বর, জনৈক শাজাহানের ছেলে আকাশ, মালেক আহনের ছেলে ইসমাইল হোসাইন সম্রাট এবং রফিক মিস্তীর ছেলে ইমাম হোসাইন ইমন।

এলাকাবাসী জানান, ইতোমধ্যে জলিলের একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়। ওই কলরেকর্ডে জলিল পশ্চিম এওয়াজপুরের আতিকুর রহমান শিবলুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। কলরেকর্ডে জলিলকে বলতে শোনা যায়, শিবলুকে হত্যার জন্য উপর মহলের নির্দেশ রয়েছে। হত্যা করতে পারলে পুরস্কার আছে।

এলাকাবাসী বলছেন, জলিল ও শরীফ অত্যন্ত বেপরোয়া। ওরা যে কোনো সময় যে কাউকে খুন করতে পারে।

জলিল এবং শরীফ তাদের ফেসবুক আইডির মাধ্যমে হুমকি দিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছেন। টাকা না দিলে আওয়ামী লীগ ট্যাগ লাগিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন। গত ২৫ মে জলিল-শরীফ তাদের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন এলাকার আলহাজ আবুল কালাম মাস্টারের ছেলে নুরউল্যাহকে নিয়ে। ওই স্ট্যাটাসে নুরুল্লাহর নামে বিভিন্ন আপত্তিজনক ও মানহানিকর কথা লিখেন।

এলাকার হুমায়ুন পন্ডিত নামের এক ব্যক্তির নামে তার ছবি দিয়ে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে গত ২২ মে জলিল ও শরীফের ফেসবুক আইডি থেকে। তাছাড়া, বিভিন্ন ব্যক্তিকে আক্রমণ ও হুমকি দিয়ে জলিল-শরীফ বিভিন্ন সময় তাদের ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন।

চরফ্যাশনের সাংবাদিক এম আবু সিদ্দিক ও সাংবাদিক জামাল মোল্লাকে নিয়ে জলিল ও শরীফ তাদের ফেসবুকে উস্কানি ও মানহানিকর স্ট্যাটাস দেন।

২০২৫ সালের ১৩ জুন দুপুর ২ টার দিকে জলিল-শরীফের নেতৃত্বে এলাকার ৬-৭ জন তরুণ অতর্কিতভাবে আতিকুর রহমান শিবলু ও আরশাদুল আলম নোবেলের উপর হামলা চালান। এতে শিবলু ও নোবেল মারাত্মক আহত হন। আহত দুজনের বক্তব্য হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে জলিল-শরীফ চাঁদা দাবি করে আসছেন।

আতিকুর রহমান শিবলু গত ৫ মে আইজিপির কাছে অভিযোগ করলে তদন্তের ভার আসে সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মেহেদী হাসানের উপর। সহকারী পুলিশ সুপার আজ২৪ জুলাই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

আতিকুর রহমান শিবলু জানান, সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান তার কার্যালয়ে আমাকে ডেকে আমার বক্তব্য শুনেছেন। আমি তাকে বিস্তারিত জানিয়েছি। আমি আশংকা করছি অভিযুক্তরা আমার যে কোনও ক্ষতি করতে পারে।