, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালালা সেন্টারে’র ফাঁদে তথ্য ফাঁস শত শত মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৯ পড়া হয়েছে

ফেসবুকে ‘হালালা সেন্টার’ নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের হিল্লা বিয়ের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে শত শত মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য পাঠিয়েছিলেন। তবে বিয়ের প্রক্রিয়ার বদলে কয়েক দিন পর সামাজিক মাধ্যমে তাদের জীবনবৃত্তান্ত, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরসহ সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে তারা সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে হালালা সেন্টারের প্রচারণা চালানো সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক ব্যক্তি। আবার কেউ কেউ ফেসবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, কীভাবে বারবার নাম বদল করা হয়েছে ওই আইডির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সানজিদা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। কয়েক দিন আগে ওই আইডি থেকে হিল্লা বিয়ের (মুহাল্লিল-সংক্রান্ত) জন্য আগ্রহী পুরুষদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। পোস্টে হাফেজ, আলেম, শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহী হওয়ার দাবি করা হয় এবং ইমেইলে আবেদন পাঠাতে বলা হয়। পরে একই আইডি থেকে একটি পোস্টে অন্তত ৮০ জন আবেদনকারীর ইমেইল ও সিভির স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে অনেকের নাম, ফোন নম্বর, পেশা ও ব্যক্তিগত পরিচয় দৃশ্যমান ছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, ‘হাজার হাজার’ আবেদন এসেছে এবং সেগুলোর একটি অংশ ‘স্মারক হিসেবে’ প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী বিষয়টিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে দেখলেও, ভুক্তভোগীদের জন্য এটি গুরুতর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার সংকট তৈরি করে।

যেসব ব্যক্তির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায় ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি। কেউ দাবি করেন, তাদের সিভি বা নম্বর অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ বলেন, তাদের জিমেইল বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ জানান, চাকরি বা অন্যান্য প্রয়োজনে আগে জমা দেওয়া তথ্য থেকে তাদের ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। একজন ভুক্তভোগী জানান, প্রকাশিত তথ্যের কারণে তিনি অপ্রত্যাশিত কল ও বার্তার মুখে পড়েছেন এবং সামাজিকভাবে বিব্রত হচ্ছেন।
এদিকে পোস্টগুলোর পেছনের আইডি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে দেখা গেছে, আইডিটির পরিচয় অস্পষ্ট এবং কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সংযোগ যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই ঘটনায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তথ্য অপসারণ ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এখন শুধু একটি ভাইরাল সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নয়। বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও ডিজিটাল হয়রানির একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রতারণার অভিযোগে জিডি
ফেসবুকের ‘সানজিদা আক্তার’ আইডির বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর থানায় একটি জিডি করেছেন আবু মুছা নামে এক ব্যক্তি। ৭ জুন করা জিডিতে তিনি লিখেছেন, কয়েক দিন ধরে ওই আইডি থেকে নানা রকম ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। আইডির ব্যবহারকারী একজন পুরুষ বলে তাঁর ধারণা। যদিও তিনি পরিচয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু মুছা সমকালকে বলেন, ২০২৪ সালে প্রথমে তাবলিগের সাদপন্থি জিয়া বিন কাসেমের নামে একটি আইডি খোলা হয়। সেটি তাঁর ছেলে পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, জিয়া কারাগারে আছেন। তাঁকে ছাড়ানোর জন্য টাকা প্রয়োজন। সন্দেহ হওয়ায় আমি জিয়ার পরিবারের খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তাঁর ছেলেরা ছোট। কেউ ফেসবুক আইডি খোলেনি, টাকাও চায়নি। মজার ব্যাপার হলো, পরে এক সময় সেই ভুয়া আইডিতে ক্লিক করে দেখা যায়, সেটিই এখন সানজিদা আক্তার নামে চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি আইডি জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় আমার মনে হয়, এটি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে তিনি ওই আইডি থেকে কথিত হালালা সেন্টারের নামে প্রচারণা শুরু করেন। পরে দেখি, হিল্লা বিয়েতে আগ্রহী প্রচুর মানুষের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, ফেসবুক-সংক্রান্ত জিডি সাধারণত আমরা সাইবার সেলে পাঠিয়ে দিই। এই জিডির তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে তা এখনই বলতে পারছি না।

বারবার বদলেছে আইডির নাম
সানজিদা আক্তার আইডির একটি পোস্টে কমেন্ট করেছেন নায়িম হাসান নামে এক ব্যক্তি। সেখানে তিনি বলেছেন, আইডিটি ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর খোলা হয়। একই দিনে এর নাম পরিবর্তন করে ‘মুফতি জিয়া বিন কাসেম’ রাখা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল নাম পরিবর্তন করে ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা– ড্রিম এক্সপ্ল্যানেশন’, একই বছরের ১০ অক্টোবর ‘মুহাদ্দিসা অপু’ এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ‘সানজিদা আক্তার’ নাম ব্যবহার করা হয়। আইডিতে ব্যবহৃত প্রোফাইল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, সেটি একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া। একইভাবে কভার ফটোটি দোলা মল্লিক নামের আরেকটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এদিকে গত ৮ জুন রাতে ওই আইডি থেকে করা একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ আমাকে গ্ৰেপ্তার করছে। বর্তমানে আমি উত্তরা থানাতে আছি। আল্লাহ সহায় হোন।’ এ ঘটনাটি যাচাই করে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের দাবি সঠিক নয়। উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় যোগাযোগ করে এমন তথ্য মেলেনি।

হালালা সেন্টারে’র ফাঁদে তথ্য ফাঁস শত শত মানুষ

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ফেসবুকে ‘হালালা সেন্টার’ নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের হিল্লা বিয়ের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে শত শত মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য পাঠিয়েছিলেন। তবে বিয়ের প্রক্রিয়ার বদলে কয়েক দিন পর সামাজিক মাধ্যমে তাদের জীবনবৃত্তান্ত, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরসহ সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে তারা সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে হালালা সেন্টারের প্রচারণা চালানো সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক ব্যক্তি। আবার কেউ কেউ ফেসবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, কীভাবে বারবার নাম বদল করা হয়েছে ওই আইডির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সানজিদা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। কয়েক দিন আগে ওই আইডি থেকে হিল্লা বিয়ের (মুহাল্লিল-সংক্রান্ত) জন্য আগ্রহী পুরুষদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। পোস্টে হাফেজ, আলেম, শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহী হওয়ার দাবি করা হয় এবং ইমেইলে আবেদন পাঠাতে বলা হয়। পরে একই আইডি থেকে একটি পোস্টে অন্তত ৮০ জন আবেদনকারীর ইমেইল ও সিভির স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে অনেকের নাম, ফোন নম্বর, পেশা ও ব্যক্তিগত পরিচয় দৃশ্যমান ছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, ‘হাজার হাজার’ আবেদন এসেছে এবং সেগুলোর একটি অংশ ‘স্মারক হিসেবে’ প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী বিষয়টিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে দেখলেও, ভুক্তভোগীদের জন্য এটি গুরুতর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার সংকট তৈরি করে।

যেসব ব্যক্তির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায় ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি। কেউ দাবি করেন, তাদের সিভি বা নম্বর অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ বলেন, তাদের জিমেইল বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ জানান, চাকরি বা অন্যান্য প্রয়োজনে আগে জমা দেওয়া তথ্য থেকে তাদের ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। একজন ভুক্তভোগী জানান, প্রকাশিত তথ্যের কারণে তিনি অপ্রত্যাশিত কল ও বার্তার মুখে পড়েছেন এবং সামাজিকভাবে বিব্রত হচ্ছেন।
এদিকে পোস্টগুলোর পেছনের আইডি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে দেখা গেছে, আইডিটির পরিচয় অস্পষ্ট এবং কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সংযোগ যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই ঘটনায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তথ্য অপসারণ ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এখন শুধু একটি ভাইরাল সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নয়। বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও ডিজিটাল হয়রানির একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রতারণার অভিযোগে জিডি
ফেসবুকের ‘সানজিদা আক্তার’ আইডির বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর থানায় একটি জিডি করেছেন আবু মুছা নামে এক ব্যক্তি। ৭ জুন করা জিডিতে তিনি লিখেছেন, কয়েক দিন ধরে ওই আইডি থেকে নানা রকম ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। আইডির ব্যবহারকারী একজন পুরুষ বলে তাঁর ধারণা। যদিও তিনি পরিচয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু মুছা সমকালকে বলেন, ২০২৪ সালে প্রথমে তাবলিগের সাদপন্থি জিয়া বিন কাসেমের নামে একটি আইডি খোলা হয়। সেটি তাঁর ছেলে পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, জিয়া কারাগারে আছেন। তাঁকে ছাড়ানোর জন্য টাকা প্রয়োজন। সন্দেহ হওয়ায় আমি জিয়ার পরিবারের খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তাঁর ছেলেরা ছোট। কেউ ফেসবুক আইডি খোলেনি, টাকাও চায়নি। মজার ব্যাপার হলো, পরে এক সময় সেই ভুয়া আইডিতে ক্লিক করে দেখা যায়, সেটিই এখন সানজিদা আক্তার নামে চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি আইডি জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসায় আমার মনে হয়, এটি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে তিনি ওই আইডি থেকে কথিত হালালা সেন্টারের নামে প্রচারণা শুরু করেন। পরে দেখি, হিল্লা বিয়েতে আগ্রহী প্রচুর মানুষের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, ফেসবুক-সংক্রান্ত জিডি সাধারণত আমরা সাইবার সেলে পাঠিয়ে দিই। এই জিডির তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে তা এখনই বলতে পারছি না।

বারবার বদলেছে আইডির নাম
সানজিদা আক্তার আইডির একটি পোস্টে কমেন্ট করেছেন নায়িম হাসান নামে এক ব্যক্তি। সেখানে তিনি বলেছেন, আইডিটি ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর খোলা হয়। একই দিনে এর নাম পরিবর্তন করে ‘মুফতি জিয়া বিন কাসেম’ রাখা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল নাম পরিবর্তন করে ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা– ড্রিম এক্সপ্ল্যানেশন’, একই বছরের ১০ অক্টোবর ‘মুহাদ্দিসা অপু’ এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ‘সানজিদা আক্তার’ নাম ব্যবহার করা হয়। আইডিতে ব্যবহৃত প্রোফাইল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, সেটি একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া। একইভাবে কভার ফটোটি দোলা মল্লিক নামের আরেকটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
এদিকে গত ৮ জুন রাতে ওই আইডি থেকে করা একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিনা ওয়ারেন্টে পুলিশ আমাকে গ্ৰেপ্তার করছে। বর্তমানে আমি উত্তরা থানাতে আছি। আল্লাহ সহায় হোন।’ এ ঘটনাটি যাচাই করে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের দাবি সঠিক নয়। উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় যোগাযোগ করে এমন তথ্য মেলেনি।