ভোলায় আলোচিত ধর্ষণ মামলার এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে, যেখানে মামলার বাদী নিজেই এখন অভিযুক্তকে মুক্ত করার দাবিতে জেলগেটে অবস্থান করছেন।
জানা যায়, ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত আরিফ হোসেন বর্তমানে জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোলা জেলা কারাগারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মামলার বাদী ওই নারী নিজেই সেখানে অবস্থান করছেন এবং অভিযুক্ত আরিফের মুক্তি দাবি করছেন।
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ওই নারী বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং জি আর ২০৮ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন মামলার বাদী। তিনি জানান, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। কখন কাকে কী বলি তা নিজেও জানি না। আশেপাশের কিছু রোগী ও লোকজন আমাকে যা শিখিয়েছে, আমি সেটাই বলেছি। তখন আমার মাথা ঠিকভাবে কাজ করছিল না। এখন বুঝতে পারছি, আরিফের কোনো দোষ নেই। সে নির্দোষ। তাই আমি তাকে ছাড়াতে জেলগেটে এসেছি।”
মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “মামলার বিষয়ে আমি কিছুই বুঝিনি। কীভাবে কী হয়েছে, সেটাও জানি না। জামিন কোথা থেকে নিতে হয় তাও জানি না। তাই এখানে এসেছি। প্রয়োজন হলে আদালতে যাব।”
এদিকে অভিযুক্ত আরিফ হোসেনের স্ত্রী দাবি করেছেন, তার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং একটি ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি বলেন, “আমার স্বামী কখনো এমন জঘন্য কাজে জড়িত হতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং আরিফের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে।