ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলার তজুমদ্দিনে বাবুল ফরাজীকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শর্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আব্দুল গফুর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের গোলকপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শম্ভুপুর ইউনিয়নের মুচিবাড়ির কোনা এলাকার জাফরের দোকানে ওষুধ কিনতে যান বাবুল ফরাজী। এ সময় আব্দুল গফুরসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন এবং বৈদ্যুতিক শর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবুল ফরাজীকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বাবুল ফরাজীর স্ত্রী জোসনা বেগম তজুমদ্দিন থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি ২১/২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আব্দুল গফুর নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মুচিবাড়ির কোনা এলাকায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ‘টর্চার সেল’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় শামসুল হককে মারধর ও বৈদ্যুতিক শর্ট দেওয়ার অভিযোগও ওঠে আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শামসুল হক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া কয়েক মাস আগে ছোট ডাওরী এলাকার নুর হোসেন মাঝির মুদি দোকানে ঢুকে তাকে ও তার ছেলেকে রড দিয়ে মারধরের অভিযোগে আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, রায়হান, আব্দুর রব ও শরীফসহ কয়েকজন বলেন, আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছে।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কে বলেন, বাবুল ফরাজীকে মারধরের ঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আব্দুল গফুরকে গোলকপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।